সুপ্রিম কোর্ট যদি শুল্কনীতির বিরুদ্ধে রায় দেন, তবে মার্কিন অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে গত সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। খবর রয়টার্স।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের জরুরি ক্ষমতা আইনের অধীনে আরোপিত শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দিলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে। বাড়তি শুল্ক থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ নিম্ন ও মধ্য আয়ের মার্কিনদের মধ্যে বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে হোয়াইট হাউজের। জনপ্রতি এর পরিমাণ ২ হাজার ডলার। একে ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। শুল্ক বাবদ আদায় হওয়া বাকি অর্থ সরকারি ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।
ট্রাম্পের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট জানিয়েছেন, শুরুতে শুধু বাজেট ঘাটতি কমানোর কাজে শুল্ক ব্যবহার করতে চেয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু বড় আকারের কর আদায় হওয়ায় ডিভিডেন্ড বিতরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রয়টার্স ও ইপসোস পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী গত কয়েক মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে। ভোটারদের বড় অংশ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একে নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া ও নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার কারণ বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
শুল্ক আরোপের বৈধতা নিয়ে মামলার শুনানিতে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগে নিম্ন আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্টে (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের কোনো ক্ষমতা দেয়া হয়নি।
শুনানিতে বিচারপতি এমি কনি ব্যারেট বলেন, ‘যদি ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করা হয়, তবে সরকারকে আমদানিকারকদের শত শত কোটি ডলার ফেরত দিতে হতে পারে, যা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।’
আইইইপিএ আইনের আওতায় আরোপিত শুল্কে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহ হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এ অংক অনেক কম দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তারা সঠিক হিসাব দিচ্ছে না। ফেরত দিতে হলে তা ২ লাখ কোটি ডলারের বেশি হবে। আমরা যদি এ মামলায় হেরে যাই, তা হবে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ভয়াবহ।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তার প্রশাসনের সময় মূল্যস্ফীতি কমেছে এবং খাদ্য ও জ্বালানির দাম নিম্নমুখী রয়েছে। মূল্যস্ফীতি শিগগিরই ১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) আগের মাসের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ। একে শুল্কনীতির সরাসরি প্রভাব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।